logo
বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ)
প্রতিষ্ঠার সালঃ ২০১৭ খ্রি

নার্সিং শিক্ষার গুরুত্ব

মানবসেবার কাণ্ডারি, আর্তপীড়িত ও ব্যথিতের কান্নার আওয়াজের সাক্ষ্য বহন করেন যারা, তারাই পরিচয় বহন করেন মহানুভবতার। এই মহানুভবেরা আমাদের কারো না কারো পরিবারের সদস্য। যারা তাদের জীবন, সংসার আর অতি আদরের সন্তানকে ঘরে রেখে দিনরাত রোগীদের সেবাকাজে নিয়োজিত থাকেন তাদের অদম্য ও ক্লান্তিহীন পরিশ্রমের ফলে অসুস্থ মানুষেরা সুস্থ হয়ে ওঠেন। মানবসেবা মহত্ত্বের কাজ। আর এই সেবা যারা পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তাদের পেশাগত পদবি—নার্স। তাদের পেশার নাম—নার্সিং। নার্সিং পেশা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

পেশা হিসেবেও নার্সিং অতি প্রাচীনকাল থেকেই সুপরিচিত। নার্সিং পেশা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে আলোকবর্তিকা ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের মাধ্যমে। মানুষের রোগব্যাধি উপশমের পাশাপাশি রোগ-প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য-শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে গণমানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি, যেকোনো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ও যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আহতদের সেবা-শুশ্রূষা দানে পেশাজীবী প্রশিক্ষিত ও দক্ষ নার্সদের ভূমিকা রয়েছে।বর্তমান যুগে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই প্রযুক্তির উত্কর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্সাবিজ্ঞানের অনেক উন্নতি সাধিত হচ্ছে। পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবার মান। বর্তমানে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী ভোক্তার ব্যয় বাড়ছে। এর সঙ্গে নিরাপদ এবং মানসম্মত উন্নত সেবার চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গণমানুষের এই সেবা চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে গড়ে উঠেছে অনেক বিশেষায়িত হাসপাতাল, যা কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে।

 

মা ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ করে স্বাস্থ্য উন্নয়নে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে, যা বিশ্ব দরবারে এক অনন্য উদাহরণ। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেকাংশে কমে এসেছে এবং অকাল মৃত্যুর সংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও নার্সের আনুপাতিক হার ৫০০০:১, চিকিত্সক নার্স ৩:১, যেখানে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিত্সক নার্সের আদর্শগত অনুপাত হওয়া উচিত ১:৩। আমাদের দেশে এই চিত্রটি পুরোপুরি উল্টো। এই শূন্যতা পূরণ করতে হলে দেশের বিদ্যমান নার্সিং কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলিতে শিক্ষার্থী ভর্তির আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে এবং নতুন উদ্যোগে আরো অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রোগীদের সঠিক চিকিত্সা-সেবা প্রদান করা এবং আরোগ্য লাভে প্রতিটি নার্স সচেতনভাবে কাজ করে আসছেন। এই গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, মৃত্যুহার কমানো, গুণগত বিশেষায়িত সেবা প্রদান ও গণমানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি প্রভৃতির মাধ্যমে সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ভূমিকা রাখার জন্য সম্প্রতি সদাশয় সরকার রেজিস্টার্ড নার্সদের তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা প্রদান করেছে। অধিকন্তু জানুয়ারি ২০১৬-তে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন পরীক্ষার মাধ্যমে ৯,৬০০’র অধিক সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ দিয়েছেন, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি পূরণে অনেক সহায়ক হয়েছে।

 

হাসপাতালে নার্সদের বিভিন্ন বিভাগে বা কোনো নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ইউনিটে বা আউটডোরে রোস্টার মোতাবেক কাজ করতে হয়। এর অন্যতম প্রধান কারণ নার্স স্বল্পতা। কাজেই তারা নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন না। এর প্রেক্ষিতে কোনো রেজিস্টার্ড নার্স কোনো ক্ষেত্রে স্পেশালাইজড নার্স হিসেবে গড়ে ওঠা প্রয়োজন। 
দেশের উন্নয়নের জন্য সরকারি এবং বেসরকারি উভয় কাজের সুযোগ রয়েছে। । নিবন্ধিত নার্সদেরকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। ।